দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন-পুরোনো পাঠ্যবই ও খাতাভর্তি একটি ট্রাক জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে পৌর শহরের উত্তর মিঠাখালী এলাকার আরাফাত মঞ্জিলের সামনে থেকে বইভর্তি ট্রাকটি জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তর মিঠাখালী এলাকার মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজের তত্ত্বাবধানে বগুড়া ট্রান্সপোর্টের একটি ট্রাকে সরকারি বই তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা প্রশাসনকে খবর দেন। পরে মঠবাড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি জব্দ করেন।
মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ উল্লাহ দাবি করেন, জাকারিয়া হাওলাদার নামে এক ফেরিওয়ালা এসব বই ও খাতা তাদের কাছে বিক্রি করেছেন। জাকারিয়া বিভিন্ন বাড়ি থেকে পুরোনো বই সংগ্রহ করে বিক্রি করেন বলে তিনি জানান। বইগুলোর উৎস সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।
অন্যদিকে ফেরিওয়ালা জাকারিয়া হাওলাদার জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি মঠবাড়িয়া সরকারি হাতেম আলী বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেনের কাছ থেকে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের নতুন বইসহ মোট ৫৮৭ কেজি সরকারি বই ও খাতা কিনেছিলেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে প্রশাসনের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছেন, দুইজন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে মাত্র কিছু পুরোনো বই ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ জানান, বইসহ ট্রাকটি থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি মোবাইল কোর্টের আওতাভুক্ত নয়। তাই রোববার উপজেলা পুরোনো বই বিক্রি কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ে চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ করা হয়, তাই অতিরিক্ত বই থাকার কথা নয়। অতিরিক্ত বই থাকলেও তা উপজেলা কমিটিকে অবহিত করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করতে হয়। প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে তাকে কিছু জানাননি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/